Pair of Vintage Old School Fru
Cooltext764879529 65

দশ বছরই নিষিদ্ধ
নাদির শাহ

Image 27193 1
নির্দোষ সৈকত স্পোর্টস রিপোর্টার
(bdnews25.wapamp.com/Dhaka)

সাজা যে এটাই
হতে যাচ্ছে,
তা একরকম
জানাই
ছিল।
অপেক্ষা ছিল, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) থেকে সবুজ সংকেত পাওয়ার। সেই সংকেত পেয়েই অবশেষে ম্যাচ পাতাতে পারেন এমন 'দাবি' করায় আনুষ্ঠানিকভাবে দশ বছরের জন্য নিষিদ্ধ করা হল আম্পায়ার নাদির শাহকে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) তাকে 'নিজের আওতাধীন' সব ধরনের ক্রিকেট থেকে নিষিদ্ধ করেছে। এই একই ঘোষণায় সুখবর পেয়েছেন বাংলাদেশের আরেক আন্তর্জাতিক আম্পায়ার
শরিফুদ্দৌলা ইবনে শহিদ
সৈকত। ভারতীয় টেলিভিশন চ্যানেলের গোপন অপারেশনেই তিনি নিজের সততা প্রমাণ করতে পেরেছিলেন। কিন্তু ঘটনায় তার নাম আসায় দীর্ঘদিন বিনাবিচারে প্রায় নিষিদ্ধ থাকার পর এবার তাকে নির্দোষ ঘোষণা করল বিসিবি। ফলে তিনি সব ধরনের ক্রিকেটের
আম্পায়ারিং করতে পারবেন
বলে বিসিবি জানিয়েছে। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিসিবি এই সিদ্ধান্ত জানানোর পরপরই আইসিসির তরফ থেকে একটি প্রতিক্রিয়া পাঠানো হয়েছে।
সেখানে আইসিসির প্রধান নির্বাহী ডেভিড রিচার্ডসন বলেছেন, 'বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের এই সিদ্ধান্ত প্রমাণ করে যে, আমরা সবাই ক্রিকেটীয় দুর্নীতির
ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স
দেখিয়ে মহান খেলাটিকে সমুন্নত রাখব।' তারা বিসিবির সিদ্ধান্তকে যথার্থ বলে অভিহিত করেছেন। ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল ভারতীয়
একটি টেলিভিশন চ্যানেলের
'স্ট্রিং অপারেশন'-এর ভেতর দিয়ে। বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার ছয় আম্পায়ারের গোপন কথোপকথন প্রকাশ করেছিল চ্যানেলটি। সেখানে নাদির শাহ 'যে কোনো ম্যাচ' পাতাতে পারেন বলে দাবি করেন এবং কয়েকজন ক্রিকেটার ম্যাচ পাতানোয় জড়িত বলেও বলেন। পরে ২০০৮ সালের ৮ অক্টোবর ভিডিওটি প্রকাশের পর নাদির শাহসহ ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলংকার ছয়জন
আম্পায়ারকে সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ
করা হয়েছিল। পরে অবশ্য সব অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন নাদির শাহ। কিন্তু নাদির শাহর এ অস্বীকৃতি টলাতে পারেনি বিসিবিকে।
সেই
সাক্ষাত্কারটি প্রকাশের পর বিসিবি একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। সেই কমিটি ম্যাচ পাতানোর এসব বিষয়ের সাথে জড়িত সবার সাথে কথা বলে বিসিবির
কাছে রিপোর্ট জমা দেয়। বিসিবির গত সভায় নাদীর শাহ'র ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হলেও এতোদিন তা আইসিসির সম্মতির জন্য অপেক্ষা করছিল ক্রিকেট বোর্ড। যদিও বিসিবির
মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান জালাল ইউনুস বলেন, 'আইসিসিকে আমরা শুধু অবহিত করেছি। আমাদের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত ছিল'। দশ বছরের জন্য নিষিদ্ধ হলেও এ শাস্তির বিরুদ্ধে নাদীর শাহ নিজে আপিল করতে পারবেন বলে জানিয়েছে বিসিবির
মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান, 'অবশ্যই তিনি আপিল করতে পারবেন। বিসিবির বরাবর সেই আপিলটি করতে হবে। তবে যত দ্রুত সম্ভব সেটা তাকে করতে হবে'। নাদীর শাহ'র ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে বিসিবি দুই দফায় তদন্ত কমিটি গঠন করে। কিন্তু তথ্য সংগ্রহ এবং অভিযুক্তকে সময়মত না পাওয়ায় প্রথম তদন্ত কমিটি বিসিবির কাছে রিপোর্ট জমা দিতে ব্যর্থ হয়েছিল। বোর্ডের এডহক কমিটি এসে ফের তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে। সেই কমিটি ভারতীয় টিভি চ্যানেলের সেই সাংবাদিককে জিজ্ঞাসাবাদ
করেছে। শুধু তাই নয়, জাতীয় দলের তিন ক্রিকেটারের সাথেও কথা বলেছে তারা। আম্পায়ার সৈকত ও অভিযুক্ত নাদীর শাহ'য়ের
সাথেও
কথা বলেছে তদন্ত কমিটি। তাদের রিপোর্টের
ভিত্তিতে বোর্ড এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দশ বছরের জন্য নিষিদ্ধ হওয়ায় নাদীর শাহ'র ক্যারিয়ার
বলতে গেলে এক রকম শেষ হয়ে যাবে। ৪০টি ওয়ানডে ও তিনটি টি- টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে নাদীর শাহ আম্পারিং করেছেন। এই শাস্তির ফলে ক্রিকেট মাঠে আর ফিরতে পারবেন না তিনি। এ ব্যাপারে তার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মুঠোফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। কিন্তু তদন্ত কমিটির এক কর্মকর্তা জানিয়েছিলেন,
তাদের কাছে সাক্ষ্য দেয়ার সময় নাদীর শাহ তার
বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ স্বীকার করেছিলেন। টাকার বিনিময় যে কোনভাবে ম্যাচ পাতাতে পারেন বলে তিনি ভারতীয় টিভি চ্যানেলকে সাক্ষাত্কার
দিয়েছিলেন।

(bdnews25.wapamp.com/Dhaka)


Share|
Home
© 2013 bdnews25.wapamp.com